
আমরা জানি, আমাদের খাদ্যে ৬ ধরনের খাদ্য উপাদান আছে- শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবন ও পানি। এই ৬ উপাদান ছাড়াও আরো কিছু জৈব উপাদান আমরা খাবার থেকে পেয়ে থাকি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) হল তার মধ্যে একটি, যা ভিটামিন এ, সি এবং ই এরই মত।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) অত্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান যার প্রধান কাজ হল- ফ্রি রেডিক্যালের বিরুদ্ধে আমাদের দেহকে সুরক্ষা দেওয়া।
ফ্রি রেডিক্যাল (Free Radical) সম্পর্কে এই লিঙ্ক থেকে দেখে নিন।
সংক্ষেপে ফ্রি রেডিক্যাল (Free Radical) কি জেনে নিই
রসায়ন বিজ্ঞানের ভাষায় সংক্ষেপে বলতে গেলে, রেডিক্যাল (Radical) বা মুলক হল এক প্রকার উচ্চতর সক্রিয় অণু যা আমাদের শরীরেও স্বাধীনভাবে ঘুরাফেরা করতে পারে, যা ফ্রী রেডিক্যাল (Free Radical)নামে পরিচিত। প্রসেস্ড্ ফুড, খাদ্যে কেমিক্যাল, পরিবেশ দূষন, প্রদাহ সহ নানা কারনে শরীরে ফ্রি রেডিক্যাল সৃষ্টি হয়। এই অস্থিতিশীল মুক্ত অণু বা ফ্রি রেডিক্যাল তার স্থিতিশীলতার প্রয়োজনে শরীরের কোষকলার ধ্বংস সাধন করে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও জটিল রোগ সৃষ্টির কারন। এন্টিঅক্সিডেন্ট (Anti-oxidant) সেই ক্ষতি থেকে আমদেরকে রক্ষা করে।
এন্টিঅক্সিডেন্ট (Anti-oxidant) কিভাবে আমাদেরকে ফ্রী রেডিক্যাল (Free Radical) থেকে বাঁচায়?
ফ্রি রেডিক্যাল এর পরমাণুর সর্ববহিঃস্ত স্তরে ইলেক্ট্রনের ঘাটতি থাকে। ফলে এটি অস্থিতিশীল থাকে। এই ঘাটতি পূরণ করতে ফ্রি রেডিক্যাল অন্য সুস্থির পরমানুর ইলেক্ট্রন চুরি করে। এর ফলে সুস্থির পরনাণুটি আবার অস্থিতিশীল হয়ে ফ্রি রেডিক্যালে রূপান্তরিত হয়। এভাবে ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টিকারী চেইন বিক্রিয়াটি চলতে থাকে।
এখানে এন্টিঅক্সিডেন্ট (Anti-oxidant) এর ভূমিকা হল- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নিজে সুস্থির থেকেই ফ্রি রেডিক্যালকে ইলেক্ট্রন দান করে ফ্রি রেডিক্যাল কে সুস্থির করে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের বাঁচায়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) আমাদের কি কি উপকার করে
এন্টিঅক্সিডেন্ট এর সবচেয়ে বড় কার্যকারিতা হল, এটা আমাদের দেহে বয়সের ছাপ পড়তে দেয়না অর্থাৎ আমাদের অধিক বয়সেও তরুণ থাকতে সাহায্য করে।
এছাড়া ফ্রি রেডিক্যালের কারনে আমাদের শরীরে যে সমস্ত রোগ ও জটিলতা দেখা দেয়, সেগুলোকে প্রতিরোধ করে; যেমন-
- অকাল বার্ধক্য
- চেহারায় বয়সের ছাপ
- ক্যান্সার
- হৃদরোগ
- প্রদাহজনিত রোগ
- ডায়াবেটিস
- চোখের রোগ
- পারকিনসন’স ডিজিজ
- পারকিনসন’স ডিজিজ
- রক্তের শিরা উপশিরা শক্ত হয়ে যাওয়া
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) কিসে পাওয়া যায়?
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমরা দুটি প্রধান উৎস থেকে পেতে পারি-
অন্তর্জাত (Endogenous) উৎস: আমাদের শরীরের ভিতরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হয়ে আমাদেরকে সুরক্ষা দেয়।
বহির্জাত (Exogenous) উৎস: যা আমরা বিভিন্ন খাদ্য থেকে পাই। খাবারের মধ্যে- ফল, শাকসবজি এবং বাদাম ও বীজ জাতীয় খাদ্য থেকে আমরা ভাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) থেকে পেতে পারি।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) এর সবচেয়ে ভাল উৎস
➤ ফল
ফলের মধ্যে বেরি জাতীয় ফল, সিট্রাস ফল, স্থানীয় মৌসুমি ফল, যেমন- করমচা, কালোজাম, বরই, কালজাব, লটকন, ডালিম, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর ইত্যাদি্র মধ্যে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) আছে।
➤ সব্জি
সব্জির মধ্যে সবুজ শাকসব্জি, ব্রকলি, পালং শাক, সজনে ডাটা, বরবটি ইত্যাদিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।
➤ অন্যান্য
বাদাম, সিম ও সিমের বীজ, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, দুধ, ডিম ইত্যাদিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।
উপসংহার
এন্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি পূরন করতে তথা ফ্রি রেডিক্যালেরে ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকতে আমাদেরকে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় অবশ্যই এন্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার রাখতে হবে।